fbpx
Home ব্লগ ফ্রিল্যান্সিং ফ্রিল্যান্সিং কে পেশা হিসাবে নিতেহলে যেই বিষয় গুলা অবশ্যই জানতে হবে
পেশা হিসাবে ফ্রীলাঞ্চিং

ফ্রিল্যান্সিং কে পেশা হিসাবে নিতেহলে যেই বিষয় গুলা অবশ্যই জানতে হবে

ফ্রিল্যান্সিং কি? কিভাবে শুরু করবেন ফ্রিল্যান্সিং?

বর্তমানে  “ফ্রিল্যান্সিং পেশা” বহুল প্রচলিত একটি পেশায় পরিণত হয়েছে। আর এটি শুধু মাত্র বাংলাদেশ নয়, প্রযুক্তির ছোঁয়া পাওয়া প্রত্যেকটি দেশেই এর জনপ্রিয়তা । প্রযুক্তির ব্যাপক প্রসারই এই পেশাকে সহজ এবং জনপ্রিয় করে তুলেছে। সামান্য কয়েক বছর আগেও এই পেশা ছিল কল্পনাতীত। এই পেশাটি নারী এবং পুরুষ উভয়ের জন্যই উপযোগী। ঘরে বসে করা যায় বলে আমি মনে করি নারীদের জনে এই পেশা খুবই চমৎকার এবং সম্ভাবনাময়। বিশেষ করে বাংলাদেশী নারীদের জন্য। যদি ঢাকা শহরের কথা বলি, আমার মনে হয় একজন চাকুরীজীবী নারীই বলতে পারবে তাঁকে কতটা প্রতিকূল পরিবেশ মোকাবেলা করতে হয়। সেইটা যাতায়াত হউক কিংবা অন্য কোন সামাজিক প্রতিবন্ধকতা। ঘরে বসেই ফ্রিল্যান্সিং জব করা যায় বলে নারীদের জন্যে বেশ উপযোগী।

এই পেশাটি যেহেতু মুক্ত এবং স্বাধীন পেশা, কোন কাজ করবেন এবং কার সাথে কাজ করবেন সব কিছুতেই রয়েছে আপনার স্বাধীনতা। যার ফলে একজন নারী হিসাবে আপনি সকল সামাজিক প্রতিবন্ধকতা এড়িয়ে আপনার পরিবার কিংবা দেশের অর্থনীতিতে আপনার ভূমিকা রাখতে পারেন।  ফ্রিল্যান্সিং কাজ যেই কোন সময়, যেকোনো স্থান থেকে বসে করা যায়। যার ফলে এই পেশার জনপ্রিয়তা অতি দ্রুত বাড়ছে।

কিভাবে শুরু করবেন ফ্রিল্যান্সিং?

প্রথম দিকে আপনি প্রথমে সহজ কাজ দিয়েই শুরু করতে পারেন অর্থাৎ আপনি যা জানেন তা দিয়েই ফ্রিল্যান্সিং-এর কাজটি শুরু করতে পারেন। পেশা গুলো নিয়ে আমি আমার অন্য পোস্ট এবং ইউটিউব ভিডিওতে বিস্তারিত আলোচনা করেছি। অনেক ধরনের কাজ আছে যেমন- লেখা লিখি, প্রেজেন্টেশন ডিজাইন, ট্রান্সলেশন, প্রোগ্রামিং, ডিজিটাল মার্কেটিং,  গ্রাফিক ডিজাইন, ওয়েব ডিজাইন, ইমেজ এডিটিং, ডেভেলপমেন্টসহ আর ও অনেক কিছু।

আপনাকে খুঁজে নিতে হবে আপনি কি করতে চান। অর্থাৎ নিজের আগ্রহ খুঁজে বের করুন। যে কাজটি আপনি পারেন বা যে কাজে আগ্রহ আছে সেটা শিখে নিতে পারেন। নিজের স্কিল ডেভেলপ করতে বেশি সময় লাগবে না, যদি প্রচণ্ড ইচ্ছা থাকে। আপনি যদি ইচ্ছা করেন তবে অবশ্যই পারবেন। আমি নারী- এসব আমাকে দিয়ে হবে না, আমি কি পারবো প্রযুক্তিনির্ভর এসব কাজ ইত্যাদি ঠুনকো প্রশ্নগুলো মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলুন। ভয় ও সংকোচ বাদ দিয়ে আজই কাজে নেমে পড়ুন। আত্ম বিশ্বাসী হউন, নিজের উপর আস্থা রাখুন। আর আপনি যদি গ্রাফিক ডিজাইনে ইন্টারেস্ট ফিল করেন তাহলে আমার ইউটিউব চ্যানেলে আপনার জন্যে রয়েছে অনেক হেল্প ফুল ভিডিও এবং আর্টিকেল। এই ওয়েবসাইটের অন্যান্য পোস্ট গুলো পড়ুন। আপনাদেরকে হেল্প করার জন্যেই আমার এই ওয়েবসাইট এবং ফেসবুক গ্রুপ।

যেভাবে সফলতা আসে

স্মরণ রাখতে হবে আপনি পুরুষ বা নারী যা-ই হন সফলতা রাতারাতি পেয়ে যাবেন না। ধৈর্য, একাগ্রতা থাকলে আপনি একদিন ঠিকই সাফল্য অর্জন করবেন। ফ্রিল্যান্সিং ক্ষেত্রে সফল হওয়ার জন্য কিছু টিপস থাকলো আপনাদের জন্য:-

আপনি যদি ফ্রিল্যান্স বিষয়টাতে সম্পূর্ণ নতুন হন তাহলে আপনাকে নিচের বিষয় গুলো জানতে হতে। এই সকল বিষয়ে আমার ইউটিউবে ভিডিও রয়েছে। এছাড়াও আপনি গুগল থেকে জানতে পারেন।

  1. যারা এই পেশায় জড়িত আছে বেশ কিছু দিন থেকে তাদের প্রোফাইল দেখুন। কি কি বিষয়কে হাইলাইট করছে এবং কিভাবে তা উপস্থাপন করেছে-তাদের মতো করে নিজের প্রোফাইলকে সাজান। ব্যাট স্মরণ রাখবেন কোন ফ্রীল্যান্সিং মার্কেট প্লেসে প্রোফাইল তৈরি করার ক্ষেত্রে কারো কোন তথ্য সরাসরি কপি করবেন না। তাহলে আপনি ভয়াবহ বিপদে পরবেন। ক্যারিয়ার থেমে যাবে!!!
  2. ইংরেজিতে কমিউনিকেশন এর জন্য মিনিমাম দক্ষতা থাকতে হবে। আপনার ক্লায়েন্টরা কি কাজ করতে বলছে এবং কেমন কাজ চান, এই বিষয় গুলা বুঝার মত দক্ষতা আপনার থাকতে হবে। ভয় পাবেন না, আপনি এই সামান্য ইংলিশ অবশ্যই জানেন, কিংবা গুগল ট্রান্সলেট থেকে সুবিধা নিতে পারবেন। এছাড়াও আমাদের ফ্রি ইংলিশ কোর্স  ফলো করতে পারেন, এই লিংকে দেখুন।
  3. সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ঃ পছন্দের কাজ শিখার পরই ফ্রীল্যান্সিং মার্কেট প্লেসে অ্যাকাউন্ট খুলুন। কাজ শিখার আগে অ্যাকাউন্ট খুললে আপনি হতাশ হবেন। এই ভুলটা অনেকে করে এবং ফ্রীলাঞ্চিং ক্যারিয়ার নিয়ে নেতিবাচক ধারনা জন্মায়। এই বিষয়ে আমার ইউটিউবে ভিডিও টিউটোরিয়াল রয়েছে।
  4. কিভাবে কাজ পাবেন এবং কাজ করে উপার্জিত টাকা পকেটে আনবেন তা জানতে আমার অন্যান্য পোস্ট গুলা পড়ুন এবং ইউটিউব ভিডিও গুলা দেখুন।

কাজ শুরু করার আগে আপনাকে যেই সিদ্ধান্ত গুলা নিতে হবেঃ

কাজ শুরু করার আগে আপনাকে কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতে হবে। যেমন-  কাজটি ফুল টাইম করবেন নাকি পার্ট টাইম?  আমার মতে প্রথমেই ফুল টাইমের জন্য কাজ করা উচিত নয়। কোন জব থাকলে বা পড়াশোনার পাশাপাশি কাজটি চালিয়ে যেতে পারেন। যদি নিজের উন্নতিতে সন্তুষ্ট হন তাহলে ভবিষ্যতের জন্য সিদ্ধান্ত নিন। যেসব কাজে ভালো পেমেন্ট আছে আর পাশাপাশি আপনি আগ্রহ বোধ করেন এমন কাজ খুঁজে বের করুন।

ফ্রীল্যান্সিং এ কাজ করতে হলে যেই জিনিশ গুলো আপনার দরকার হবেঃ

কাজ করার জন্যে একটি কম্পিউটার বা ল্যাপটপ এবং  ইন্টারনেট সংযোগ ( 3G মোবাইল ইন্টারনেট কিংবা কেবল ইন্টারনেট বা ওয়াইফাই)

3G বলার কারণ হচ্ছে ধীরগতির ইন্টারনেট হলে আপনি আগ্রহ অনুভব করবেন না এবং কোন ফাইল ডাউনলোড কিংবা সেন্ড করতে সময় বেশি লাগবে। আর কেমন কম্পিউটার লাগবে তা আপনি কোন কাজ করবেন তার উপর নির্ভর করছে।

কোথায় এবং কিভাবে ফ্রিল্যান্সিং কাজ শিখবেনঃ  ফ্রিল্যান্সিং কিভাবে শিখবো? কোথায় শিখবেন?

ফ্রিল্যান্সিং কাজ যেমন ঘরে বসে করা যায় তেমনি এই কাজ ঘরে বসেই শিখা যায়। কোন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানদের কাছে যাওয়া ছাড়াই পারবেন। আমার মত অনেক ভাই বোন আপনাকে সহায়তা করার জন্যে ব্লগ লিখছে এবং ভিডিও তৈরি করতেছে। এর পর ও আপনি যদি অনুভব করেন আপনি কোন প্রতিষ্ঠান থেকে কাজ শিখবেন তবে জেনে শুনে রিভিউ জেনে কাজ শিখতে যাবেন। কারণ এই পেশাটি জনপ্রিয় হওয়ায় অনেকে ওঁৎ পেতে বসে আছে আপনার পকেটের টাকা খালি করার জন্যে। সুতরাং ভেবে শুনে সিদ্ধান্ত নিবেন।

আমার সাজেশন হচ্ছে আপনি কোন প্রতিষ্ঠানের দ্বারস্থ হওয়ার আগে ইন্টারনেট এর ডাটা কিনে কিছু টাকা খরচ করুন এবং এই পেশা সম্পর্কে ভালো ভাবে জানুন। তার পর সিদ্ধান্ত নিন।

ফ্রিল্যান্সিং পেশা নিয়ে কোন প্রশ্ন থাকলে কোথায় হেল্প পাবো?

আপনি যদি কম্পিউটার ভালো ভাবে চালাতে পারেন বা ইন্টারনেট সম্পর্কে ভালো ধারনা রাখেন তাহলে বলা যায় আপনি অনেকটাই এগিয়ে আছেন। আর আপনি যদি গুগল থেকে আপনার প্রয়োজনীয় তথ্য খুঁজে বের করতে জানেন তাহলে আপনি সফলতার খুব কাছাকাছি।

কাজ শুরু করার আগে, ফ্রিল্যান্সিং ক্যারিয়ার নিয়ে একটু ভালো ভাবে জানার চেষ্টা করুন, ফেসবুকে অনেক গ্রুপ এবং পেজ আছে যেখানে অনেক প্রশ্নের উত্তর পেয়ে যাবেন। আমার গ্রুপে কোন প্রশ্ন পোস্ট করলে আমি আপনাকে উত্তর দিয়ে সহায়তা করবো।

আপনি সহায়তার জন্যে কাউকে ফোন নাম্বার চাওয়া কিংবা দেওয়া থেকে বিরত থাকুন। এই উপদেশ আপনার নিরাপত্তার পাশাপাশি আপনাকে ই-মেইল এবং টেক্সট এর উপর নির্ভরশীল হওয়ার জন্যে বলা। কারণ ফ্রীল্যান্সিং এ সকল কাজ এবং সমস্যার সমাধান আপনাকে ই-মেইল এর মাধ্যমেই করতে হবে।

আশাকরি আমার এই পোস্টটি আপনার ক্যারিয়ার গঠনে সহায়ক হবে। নিজের উপর বিশ্বাস রাখুন, আমার ভিডিও গুলো দেখুন। আপনি যেহেতু আমার এই পুরো পোস্টটি পড়েছেন আপনি সফল হবেন! আমি আপনার সফলতা দেখতে চাচ্ছি।  কারণ অনেকেই এমন একটা পোস্ট পড়ার আগেই সফল হয়ে যেতে চায়। আপনি তাদের থেকে আলাদা। আপনি পারবেন ই !!! আমি আপনার উপর বিশ্বাস রাখি এবং শিখার জন্যে এবং স্বাধীন পেশায় সফল হওয়ার জন্যে আপনার এই ইচ্ছাকে সন্মান জানাই।

কোন প্রশ্ন থাকলে নিছে কমেন্টে জানাবেন… আমি আছি আপনার পাশে 🙂

এই পোস্টগুলো পড়ুন:

  1. গ্রাফিক ডিজাইন কিভাবে শিখবেন? কোথায় শিখবেন?
  2. জানুন কিভাবে ডিজাইনারদের ভবিষ্যত অসাম হয়!
  3. ফ্রিল্যান্সিং/আউটসোর্সিং ট্রেনিং সেন্টারগুলোতে আপনি যেভাবে ঠকতে পারেন
  4. নতুন গ্রাফিক ডিজাইনার? মাথায় আইডিয়া আসে না? (এই পোস্ট পড়ুন)
  5. ফ্রিল্যান্সার দের কাজের জন্যে কেমন কম্পিউটার প্রয়োজন?
  6. আপনি যে কারনে ডিজাইনার হতে পারবেন না (Case Study)

অন্যান্য ফ্রি কোর্স সমূহ:

  1. ফ্রিল্যান্সারদের জন্য ইজি ইংলিশ কোর্স
  2. ফাইবার ফুল কোর্স
  3. ফ্রিল্যান্সিং কোর্স – (সম্পূর্ণ ফ্রি)
Share:

Related Post

3 2 votes
Article Rating
Subscribe
Notify of
guest
6 Comments
Oldest
Newest Most Voted
Inline Feedbacks
View all comments
Md Firoz Ahmed
Md Firoz Ahmed
10 months ago

Very helpful for beginners

md masum
md masum
10 months ago

আমি এ বিষয়ে নতুন। এখন আপনার পোষ্টপড়ে অনেক কিচু জানতে পারলাম। অনেক অনেক ধন্যবাদ ও শুভকামনা রইলো।

Liton paul
3 months ago

helloআমি ফিলান্স শিখতে চাই কিভাবে শিখব কোথায় শিখব তা বলে দেবেন

mahmud
mahmud
2 months ago

ইনশাআল্লাহ চলার পথে আপনার কথাগুলো কিছুটা হলেও হেল্প করবে,ধন্যবাদ।

Jahidul Islam
Jahidul Islam
1 month ago

Really great to visit this site

md mamun ahmed
md mamun ahmed
6 days ago

ভাই আমি একজন গ্রাফিক্স ডিজাইনার আমি ফ্রিল্যান্সার একাউন্ট খুলতে চাই কিভাবে খুলব একটু কি বলবেন প্লিজ।

6
0
Would love your thoughts, please comment.x
()
x
How would like to contact us?