জানুন কিভাবে ডিজাইনারদের ভবিষ্যত অসাম হয়!

গ্রাফিক ডিজাইনাররা ভবিষ্যত কিভাবে অসাম করবেন?
গ্রাফিক ডিজাইনাররা ভবিষ্যত কিভাবে অসাম করবেন?

এই আর্টিকেলটি মূলত সিনিয়র ডিজাইনারদের জন্য যারা অলরেডি মার্কেটপ্লেস কাজ করেন। তবে নতুনরা পড়ে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা করতে পারবেন।

এই আর্টিকেল সম্পূর্ণ পড়ার পর আপনি ডিজাইনার হিসাবে আপনার লাইফ হবে আনন্দময় এবং প্রতিটি ডিজাইন করার সময় আপনি পাবেন অন্যরকম তৃপ্তি এবং সাথে থাকছে ডাবল বেনিফিট।

সিনিয়র ডিজাইনারদের উদ্দেশ্যে

আপনি কতদিন যাবত কাজ করছেন? অনলাইন ডিজাইন ক্যারিয়ারের পাশাপাশি আর কি করেন? আপনি নিশ্চয় সারা জীবন একা একা রাত জেগে ডিজাইন করবেন না। একটা সময় এটা বেশ বোরিং লাগবে। যেমনটা আমি ফিল করছিলাম ডিজাইনার হিসাবে ৮ বছর ফ্রিল্যান্সিং লাইফের এই প্রান্তে এসে।

আমরা প্রতিদিনের কর্মপ্রচেষ্টার মধ্যমে নিজেদের অর্থ উপার্জনের ব্যবস্থা করে থাকি। বেশিরভাগ জবের ক্ষেত্রেই তাই হয়। সুতরাং আমাদের সবারই জব সিকিউরিটিক কম, যদি না আপনি সরকারি চাকরি জীবী হন।

তবে গ্রাফিক ডিজাইনার হিসাবে আপনি এই দৌড়ে অন্যদের থেকে অনেকটাই এগিয়ে। আপনি অনায়াসেই চমৎকার ভবিষ্যৎ গড়তে পারেন আপনার ক্রিয়েটিভটি দিয়ে।

কিভাবে সম্ভব হবে?

আপনার সৃজনশীলতা দিয়ে অন্যের বিজনেসকে যেভাবে রাঙিয়ে তোলেন একই ভাবে আপনি নিজের ভবিষ্যতকেও রাঙাতে পারেন।

চলুন তাহলে ভূমিকা বাদ দিয়ে আসল কথায় আসি। আপনি দুই ভাবে গ্রাফিক ডিজাইনার হিসাবে অসাম ভবিষ্যৎ গড়তে পারেন।

১. দ্বিতীয় আয়ের উৎস তৈরী করে

আপনি গ্রাফিক ডিজাইনার হিসাবে যখন ফ্রিল্যান্সিং করছেন তখন আপনার আয় অন্যদের থেকে তুলনা মূলক বেশি। সেটা লোকালি কাজ করা যেকোনো ডিজাইনার কিংবা অন্য কোন জবের তুলনায় ২ থেকে ১০ গুন বেশি হওয়াটা সাভাবিক।

আপনি আপনার এই আয়ের টাকা অযথা ব্যয় না করে নিজের ভবিষ্যতের জন্য দ্বিতীয় আয়ের উৎস তৈরির মাধ্যমে। কারন এটা আয়ের উৎস কখনোই নিরাপদ নয়।

প্রথম দিরক নিরাপদ বিনেয়োগ হতে পারে কোন একটা দোকান বা জমি কেনা মধ্য দিয়ে। গ্রামে এখনো আপনি ১-৩ লাখ টাকার মধ্যে দোকান বা জমি জমি কিনতে পারেন। এভাবে আপনি ২-৩ বছরে বিশাল পরিবর্তন লক্ষ করবেন। এই স্থায়ী সম্পদ গুলো আপনাকে অনেকটা নিশ্চিন্ত রাখবে। বিয়ে করার সময় এসব আপনার যোগ্যতার প্রমান হিসাবে দেখাতে পারবেন, হা হা 😀

এছাড়াও এই ছোট ছোট সম্পদ কে পরবের্তীতে বিক্রি করে বড় কোন স্বপ্ন পূরন করতে পারবেন।

২. শুধু মাত্র এক মার্কেটপ্লেস নির্ভর না হয়ে

যে কোন কারণে সেটা আপনার ভুলের কারণে বা অনভিপ্রেত দুর্ঘটনায় আপনি হয়তো মার্কেটপ্লেস প্রোফাইল হারাতে পারেন।

আবার আপনার পার্মানেন্ট ক্লায়েন্ট যে আপনাকে সব সময় কাজ সরবরাহ করবে সেটার শতভাগ নিশ্চয়তা আপনি দিতে পারবেন না। তাই নিজেকে অনলাইনের বিভিন্ন মার্কেটপ্লেসে প্রতিষ্ঠিত করুন।

সব থেকে ভালো হয় যদি আপনি পেসিভ আয়ের উৎস তৈরি করতে পারেন। এতে করে আপনি ডায়নামিক আয়ের পথ তৈরি হবে।

পেসিভ আয়ের জন্য গ্রাফিক রিভার, গ্রাফিক রিজার্ভ, সাটার স্টক, এডোবি স্টক, ফ্রি পিক ইত্যাদি সাইটে ডিজাইন পাবলিশ করতে পারেন।

কেন অথর হওয়া জরুরী?

আপনি আপনার ১০০% ভাগ সময় নিশ্চয় একা রাত জেগে পার করে দিতে বেশ আনন্দ পাননা, পেলেও সেটা বেশিদিন স্থায়ী হওয়ার কথা না। এখন আপনার যে অনুভূতি সেটা ৫ বছর পর থাকবে না বা অন্যান্য পারিবারিক কারণে সেটা করা সম্ভব নাও হতে পারে।

তাই আগে থেকেই প্রস্তুতি নিন। আপনি ১৫ দিনের জন্য ছুটিতে গেলেও বিভিন্ন সাইটে আপনার ডিজাইন বিক্রির মাধ্যমে আপনার পেসিভ আয় অব্যাহত থাকেবে।

কিভাবে অথর হবেন?

আপনি প্রতিদিন ১০০% সময়ের মধ্যে ২০% সময় আপনার ভবিষ্যতের জন্য ব্যয় করতে হবে। এটা খুব গুরুত্বপূর্ণ। এই তথ্য একজন মিলোনিয়ার ডিজাইন অথরের সাক্ষাতকার থেকে জেনেছি।

তিনি একটা বড় এজেন্সির হয়ে কাজ করেন। প্রতিদিনের ২০% সময় মার্কেটপ্লেসের ডিজাইন পোর্টফলিওতে কাজ করেন। বর্তমানে উনার ডিজাইন স্টক আয় এজেন্সির আয় থেকে অনেক অনেক বেশি হয়।

গ্রাফিক রিজার্ভ আপনার জন্য সহজ সমাধান!

আমি আমার ফটোশপ প্রো কোর্সের টিপসে বলেছি, ক্লায়েন্টকে খুশি করতে সব সময় একাধিক ডিজাইন অপশন দিতে। একই নির্দেশনা আমি আপনাকে দিচ্ছি। কাজ করার সময় যতটা সম্ভব প্রফেশনাল এবং ইউনিক কাজ করার চেষ্টা করবেন। ফ্রি ফন্ট ব্যবহার করবেন। আপনি যখন ক্লায়েন্টের কাজ করবেন তখন মিনিমাম ২ টা অপশন তৈরি করবেন।

ক্লায়েন্ট যে ডিজাইনটা নিবে সেটা তাকে দিয়ে দিন। এক্সটা যে ডিজাইনটা থাকবে সেটা ইমপ্রুভ করে টেমপ্লেট আকারে গ্রাফিক রিজার্ভে সেল করার জন্য পাবলিশ করে দিন। স্মরণ রাখবেন, ক্লায়েন্ট একাই ওই বিজনেস করে না। অন্য অনেক ক্লায়েন্ট আছে যার সেম মার্কেটিং টুলটা প্রয়োজন!

এভাবে কাজ করলে কোন কপি রাইট ইসু থাকবে?

আমাদের কমিউনিটিতে একটা ভুল ধারণা আছে যে মার্কেটপ্লেসের ডিজাইন বা কন্টেন্টের ডিজাইন আপনি পোর্টফোলিওতে রাখেতে পরবেন না। যেটা সম্পূর্ণ ভুল ধারণা বলে আমি মনে করি।

আপনি ডিজাইন করেছেন এটা আপনার ইনটেলেকচুয়াল প্রোপার্টি। ক্লায়েন্ট যদি আপনার সাথে কোন চুক্তি না করে বা রিকোয়েস্ট করে পাবলিশ না করার জন্য তবে আপনি সে ডিজাইনটা কোথাও ব্যবহার করতে পারবেন না। তবে আপনি মডিফাই করে কন্টেন্টে এবং ইমেজ পরিবর্ত করে যে কোন মাধ্যমে ব্যবহার করতে পারবেন।

কপি রাইট এবং মার্কেটপ্লেস বিষয়ে বিস্তারিত জানতে আমার সম্পূর্ণ ফ্রি কোর্স মার্কেটপ্লেস গাইডলাইন ফলো করবেন। আশা করি এই পোস্টটি আপনার ডিজাইনার লাইফ স্টাইল উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে। ধন্যবাদ 🙂

গ্রাফিক ডিজািইন এবং ফ্রিল্যান্সিং বিষয়ক অন্যান্য যে পোস্টগুলো আপনার পড়া প্রয়োজন

Share:

Facebook
Twitter
Pinterest
LinkedIn

13 thoughts on “জানুন কিভাবে ডিজাইনারদের ভবিষ্যত অসাম হয়!”

  1. 8 years Design niye kaj kore aponar boring lagse …. tahole aponar ucit design cere onno kisu kora jeta sara jibon korleu boring lagbe nah.. emon ki aponar daily routine baire jode extra 2 hours kaj korte hoi tau jeno boring na lage

    1. তাপস, ধন্যবাদ আপনার মতামতের জন্য। আমি রাত জেগে একা একা কাজ করার অনুভূতি বুঝিয়েছি। ডিজাইন করাকে নয়।
      আপনার জানার জন্যে বলি, আমি শুধু ডিজাইন করছি না ক্রিয়েটিভ উদ্যোক্তা হিসাবে আরও অনেক কিছুই করছি। এই পোস্টের নিচের অংশে বলা গ্রাফিক রিজার্ভ ফান্ড করছি, নিজের এবং কমিউনিটির উন্নয়নের জন্য। ক্রিয়েটিভ ক্লেন প্রতিষ্ঠা করেছি অন্যদেরকে ডিজাইন শিখতে সহযোগিতা করার জন্য। যার অংশ হিসাবে এই আর্টিকেল আপনি পড়ছেন।

      1. ভাই কিছু মানুষ আছে সব জায়গায় ভুল ধরে। ওরা বেশি পন্ডি।

  2. আসসালামু আলাইকুম
    ভাইজান আমি চট্টগ্রাম থেকে বলছি। আমি ছোটখাটো একটা জবে কর্মরত আছি। পার্টটাইম হিসেবে ফ্রিল্যান্সিং এ যুক্ত হতে চাচ্ছি। & আমার প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা অতটা নেই,ইংরেজি দক্ষতাও খুব একটা ভালো নয়। আমি কি ফ্রিল্যান্সিং শিখতে পারবো? কিংবা সম্ভবপর কিনা?? প্লিস জানাবেন

Leave a Comment

Your email address will not be published.

Get monthly free recourse

Subscribe To Our Monthly Update

No spam, notifications only about new products, updates.

ফিচার্ড প্রোডাক্ট সমূহ

ফিচার্ড আর্টিকেল

বিষয় ভিত্তিক আর্টিকেলস

On Key

Related Posts

Shopping Cart