fbpx

প্যাসিভ আর্নিং…কোন মার্কেটপ্লেসের উপর ফোকাস করবেন?

গ্রাফিক ডিজাইনে প্যাসিভ আর্নিং...

আমরা যখন কোনো মার্কেটপ্লেসে (একটিভ/প্যাসিভ) একটু সফল হই তখন সবাই চেষ্টা করি অন্যান্য সকল মার্কেটপ্লেসে কাজ করার। সকল ফ্রিল্যান্সারের গোল আসলে এমনটাই হওয়া উচিত। বিশেষ করে বিভিন্ন মাইক্রোস্টক মার্কেটপ্লেসের জন্য নিজেকে প্রস্তুত করা যা আপনাকে বর্তমানের করোনা পরিস্থিতি সহ বিভিন্ন খারাপ সময়ে সাপোর্ট দিবে। এতে করে আপনাকে অন্তত হট্যাত হতাশাগ্রস্থ হতে হবে না।

এখন প্রশ্ন হলো কোন মার্কেটপ্লেসে আপনি কাজ করবেন? ধরুন আপনি একটি মার্কেটপ্লেসে মোটামোটি ভালোভাবে কাজ করে যাচ্ছেন, তাহলে আপনার উচিত হবে সেখানে কাজ করার পাশাপাশি আপনি যে ক্যাটাগরির কাজ করেন সেই ক্যাটাগরির কাজ অন্নান্য যে সকল মার্কেটপ্লেসে করা সম্ভব, সেই সকল মার্কেটপ্লেস সম্পর্কে আগে একটা ভালো ধারণা নেওয়া।

যে সকল বিষয়ে ধারণা নিবেন:

১. মার্কেটপ্লেসের “টার্মস এন্ড কন্ডিশান” ভালোভাবে পড়ে নিবেন সবার আগে। এই কাজটা বেশিরভাগ জনই করে না। কিন্তু এটা সবার আগে করা উচিত।

২. অবশ্যই কপিরাইট সেকশানটা ভালোভাবে পড়বেন। যতটা পড়বেন তার থেকে বেশি বোঝার চেষ্টা করবেন, অন্যের সাহায্য নিবেন, বিভিন্ন গ্রুপে জানার চেষ্টা করবেন। ( আমার ফ্রিপিকের প্রথম আইডি ব্যান হয়েছে একটা সামান্য কারণে, এই সামান্য কারণটাই যথেষ্ট। কিন্তু এই সামান্য কারণ অন্য মার্কেটপ্লেসে আপনার সমস্যার কারণ নাও হতে পারে, তাই কপিরাইেটর কারণ ডিটেইলস জানুন)

৩. ডিজাইন সাবমিশন রুলস ভালোভাবে পড়বেন। ডিজাইন রিজেকশনের কারণগুলো বারবার পড়বেন।

৪. FAQ সেকশানটা পড়বেন, সেখানে আপনি আনেক প্রশ্নের উত্তর পাবেন।

এরপর আপনি মার্কেটপ্লেসের রিসেন্ট এপ্রুভ হওয়া ডিজাইন দেখবেন, তারা কেমন টাইপের ডিজাইন এপ্রুভ করছে, ডিজাইনের শেপগুলো কেমন, কেমন কালার ব্যবহার করা হয়েছে, কি ধরণের টেক্সট ও ফন্ট ডিজাইনে ব্যবহার করা হয়েছে………. এই সকল বিষয়গুলো। তারপর আপনি আপনার বেষ্ট ইফোর্ট দিয়ে ডিজাইন করবেন, সময় নিবেন, ডিজাইনে ভূল বের করবেন তারপর সেগুলো আপডেট করে ডিজাইন সাবমিট করবেন।

এখন এখানে ২ টা বিষয় হতে পারে এক ডিজাইন এপ্রুভ দুই রিজেক্ট। যদি এপ্রুভ হয় তাহলে আপনি মোটামোটি ১ টা আইডিয়া পেলেন। এখন এই আইডিয়া কাজে লাগিয়ে কনটিনিউ করবেন। তারপর অন্য একটি মার্কেটকে টার্গেট করবেন।

আর যদি রিজেক্ট হয় তার পেছনে কিছু সাধারণ কারণ থাকতে পারে। যেমন-

১. ডিজাইন কোয়ালিটি ( এমন কিছু ডিজাইন আপনি করববেন যে কাজগুলো ভালো হবে না, তবে এই পরিমাণ ধীরে ধীরে কমবে )

২. মার্কেটপ্লেসের এপ্রুভ করার প্রক্রিয়া, যেমন ফ্রিপিক প্রথমে বোট দিয়ে ডিজাইন জাজ করে। সেক্ষেত্রে ভালো ডিজাইনও কোনো সময় রিজেক্ট হতে পারে।(এখানে যে ডিজাইনটা দেখতে পাচ্ছেন সেটা ফ্রিপিকে রিজেক্ট, কিন্তু গ্রাফিকরিভারে আলহামদুলিল্লাহ এপ্রুভ)

৩. মার্কেটপ্লেসের নির্দেশনা অনুযায়ী সঠিকভাবে ডিজাইন সাবমিট না করা।

৪. পিএসডি ডিজাইনের ক্ষেত্রে লেয়ার এরেঞ্জমেন্ট না করা।
এইরকম বেশ কিছু বিষয়।

  • তাই ১.ডিজাইন কোয়ালিটি খারাপ হলে কঠিন পিরশ্রমের কোনো বিকল্প নেই
  • মার্কেটপ্লেসের সিস্টেমের কারণে ভালো ডিজাইন রিজেক্ট হলেও হতাশ হওয়া চলবে না, কাজ চালিয়ে যেতে হবে সাথে রিজেক্ট হওয়া ডিজাইন অন্য মার্কেটে দিতে হবে।(গ্রাফিকরিভারে রিজেক্ট হওয়া ডিজাইন আপনি ফ্রিপিকে দিবেন, বেশিরভাগই এপ্রুভ হবে)
  • মার্কেটপ্লেসের নির্দেশনা অনুযায়ী সঠিকভাবে ডিজাইন সাবমিট করতে হবে।

৫. পিএসডি ডিজাইনের লেয়ার এরেঞ্জমেন্ট সঠিকভাবে শিখে নিতে হবে।

আপনি যদি এই কাজগুলো করেন তাহলে কোনো নির্দিষ্ট মার্কেটপ্লেসে কাজে সফলতার দৌঁড়ে ১ ধাপ এগিয়ে থাকবেন। পাশাপাশি এই অভ্যাসগুলো আপনাকে অন্যের প্রতি নির্ভরশীল হওয়ার পরিমাণ কমাবে, আপনার রিসার্স করার অভ্যাস গড়ে তুলবে, ইংরেজি সহ অন্যান্য বিষয়ে আপনাকে দক্ষ করে তুলবে।

এখানে রিভার ও ফ্রিপিককে উদাহরণ হিসেবে আলোচনা করা হয়েছে, যা সব মার্কেটপ্লেসের জন্যই প্রযোয্য।

[Note: ব্লগটি লিখেছেন, আবু রায়হান জিহাদ, এক্সিকিউটিভ অফিসার, ক্রিয়েটিভ ক্লেন)

অন্যান্য যে পোস্টগুলো আপনার পড়া প্রয়োজন

  1. গ্রাফিক ডিজাইন এবং ফ্রিল্যান্সিং শিখতে আগ্রহীদের জন্য গাইডলাইন
  2. গ্রাফিক ডিজাইন কিভাবে শিখবেন? কোথায় শিখবেন?
  3. কারা মাইক্রো স্টক মার্কেটে আপনার ডিজাইন কিনবে এবং কেন কিনবে?
  4. ফ্রিপিক যেসকল কারনে ডিজাইন রিজেক্ট করে
  5. পেওনিয়ার মাস্টার কার্ডের ফি এবং আবেদন প্রক্রিয়া ২০২০
1/5 (1 Review)
Share:

Related Post

0 0 vote
Article Rating
Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Inline Feedbacks
View all comments
0
Would love your thoughts, please comment.x
()
x
How would like to contact us?