ফ্রিপিকে সবচেয়ে সহজ উপায়ে ডিজাইন এপ্রুভ করিয়ে মার্কেটপ্লেসে কাজ শুরু করার উপায়

ফ্রিপিকে সবচেয়ে সহজ উপায়ে ডিজাইন এপ্রুভ

ফ্রিপিক মার্কেটপ্লেস বর্তমান সময়ে বহুল আলোচিত ও আকাঙ্খিত একটি নাম। কারণ ডিজাইনাররা এই মার্কেটপ্লেস থেকে বর্তমানে ভালো একটি মুনাফা পকেটে পুরতে সক্ষম হচ্ছে। তাই অন্য ডিজাইনাররাও দলে দলে এখন ফ্রিপিক মুখী হচ্ছে।

এখন আপনারা যারা মোটামোটি ভালো ডিজাইন পারেন (নতুনরা অবশ্যই ভালোভাবে কাজ শিখে আসবেন) কিন্তু ফ্রিপিকে অনেক চেষ্টার পরেও সফল হচ্ছেন না, অনেকের কাছে তদবির করেও প্রচলিত জেনারেল যে গাইডলাইন সেটা পাচ্ছেন যা আপনাদের খুব একটা কাজে আসছে না তাদের জন্য আমার এই ক্ষুদ্র প্রয়াস।

আমরা যে ভূলগুলো করি:
১। যে ডিজাইন বেশি ডাউনলোড হয় আপনারা প্রথমে সেই ক্যাটাগরি ডিজাইনের দিকে মনোযোগ দিয়ে বড় একটা ভূল করে বসেন। যেমন: আপনারা যখন দেখেন সোস্যাল মিডিয়ার ডিজাইন খুব ভালো ডাউনলোড হচ্ছে তখন আপনারা সোস্যাল মিডিয়া ডিজাইনের উপর ঝাঁপিয়ে পড়েন। ফলশ্রুতিতে কি হয়? ডিজাইন রিজেক্ট সাথে একাউন্ট ব্লক। সোস্যাল মিডিয়া ডিজাইনে আপনার যদি ভালো দক্ষতা ও অন্যান্য মার্কটপ্লেসে কাজের অভিজ্ঞতা থাকে সেক্ষেত্রে ভিন্ন কথা)

২। সঠিকভাবে মার্কেটপ্লেস রিসার্সের অভাব বা বোঝার অভাব। যেমন: একটা মার্কেটপ্লেসে কোনো একটি নির্দিষ্ট ক্যাটাগরির ডিজাইন যত বাড়তে থাকে সেই আইটেম এপ্রুভ ধীরে ধীরে ততো কঠিনতম হয়। কারণ যে ধরণের ডিজাইন মার্কেটে ইতিমধ্যে আছে সেই একই ধরণের ডিজাইন এপ্রুভের ক্ষেত্রে অনেক বাছ-বিচার করবে এটাই স্বাভাবিক।

৩। তাড়াহুড়ো করা ও সামান্যতম ডিজাইন জ্ঞান নিয়ে কাজ শুরু করা। যেমন: অনেকে লোভের বশে আবার অনেকে তাদের জীবন ব্যবস্থায় বাস্তবতার এমন পরিস্থিতিতে উপনিত হয় যে তাদের ঠিক সেই মুহুর্তে ইনকাম অপরিহার্য হয়ে পড়ে। তখন তারা তাড়াহুড়ো করে ভূল করে বসেন। এখন আপনি একটু চিন্তা করে দেখেন আমাদের দেশের প্রেক্ষাপটে আপনি যদি কোনো জব করতে চান তাহলে আপনাকে ২২ বছরের শিক্ষাজীবন শেষ করে অনেক চেষ্টা-তদবির করে একটা জব জোগাড় করতে হয়। তাহলে আপনি ৩মাস/৬মাস কাজ শিখে হাজার হাজার ডলার ইনকাম করতে চান, বিষয়টা কেমন হয়ে যায় না?

আমাদের যা করণীয়:
৩। তাড়াহুড়ো করা যাবে না এবং ভালোভাবে কাজ শিখে মার্কেটপ্লেসে নামবেন তার আগে নয়। সফলভাবে মার্কেটপ্লেসে প্রফেশনালি যারা কাজ করে সম্ভব হলে তাদের কাছে কাজ শিখবেন, মার্কেটপ্লেসে ডিজাইন আপলোড করার পূর্বে তাদেরকে ডিজাইন দেখাবেন। সামর্থ্য না থাকলে ইউটিউবের সাহায্য নিবেন।

২। মার্কেটপ্লেস রিসার্স করবেন। মার্কেটে যে ডিজাইন কম আছে সেগুলো করবেন। যেমন: রিয়েল এস্টেট, মেডিক্যেল, জিম, কর্পোরেট যাই বলেন এগুলোর ফ্লায়ার, সোস্যাল মিডিয়া পোষ্ট অনেক পাবেন। কিন্তু এগুলোর পোষ্ট কার্ড কম পাবেন, আরো কম পাবেন এগুলোর রাক কার্ড/ডি এল ফ্লায়ার, ডোর হ্যাঙ্গার। বিশ্বাস না হলে ফ্রিপিকে একটু সার্স করে দেখুন। ভালো করে লক্ষ করুন রিয়েল এস্টেটের ডোর হ্যাঙ্গার কয়টি আছে, মেডিকেল ডিএল ফ্লায়ার কয়টি আছে, জিম পোষ্ট কার্ড কয়টি আছে……………… এই ডিজাইনগূলো করুন, এগুলো এপ্রুভ হবার সম্ভাবনা বেশী, কারণ যে আইটেম মার্কেটে কম আছে তারা চাইবেই সেগুলোর পরিমাণ বাড়ুক। তাই বলে আপনারা এই ক্যাটাগরির যেনেতেনো ডিজাইন আপলোড করবেন না, অবশ্যই ভালো মানের ডিজাইন দিবেন।

১। প্রথম ২০ টা ডিজাইনে কোনো সোস্যাল মিডিয়া ডিজাইন করবেন না।

*** যদি প্রথম সাবমিশনে সব ডিজাইন রিজেক্ট করে তাহলে রিপ্লে ইমেলটা ভালো করে পড়ুন। যদি ২মাস প্রাকটিস করতে বলে তাহলে কমপক্ষে ১-১.৫ মাস পরে ২য় বারের মত ডিজাইন আপলোড করবেন। এই সময়ে ভালোভাবে প্রাকটিস করুন।

*** ১ম সাবমিশনে ২০ টা ডিজাইন রিজেক্ট হলে ২য় সাবমিশনে এই ডিজাইনগুলো আপলোড দিবেন না।

*** সব মার্কেটপ্লেসে বিজনেস কা্রডের একটা আলাদা চাহিদা সবসময়ই থাাকে, তাই বিজনেস কার্ড নিয়ে কাজ করতে পারেন। আর শুধু কর্পোরেট বিজনেস কার্ড না করে জিম বিজনেস কার্ড, মেডিকেল বিজনেস কার্ড, রিয়েল এষ্টেট বিজনেস কার্ড……. এইরকম ক্যাটাগরি ওয়াইজ করলে আরো ভালো।

*** ২০ টা ডিজাইন কয়েকটা ক্যাটাগরি মিলে ১ম সাবমিশনে দিবেন। কিছু ফ্লায়ার, বেনার, বিজনেস কার্ড, ডোর হ্যাঙ্গার……… এভাবে দিবেন।

*** ১ম সাবমিশনে এলিগেন্ট ডিজাইন না করে ফ্লাট,সিম্পল ডিজাইন করবেন। তাতে কম্পোজিশানের কারণে রিজেকশান কমাতে পারবেন।

……………………………………………………………….

মাত্র এই কয়েকটা বিষয় মাথায় রেখে শুরু করেন, ইনশাআল্লাহ হতাশ হতে হবে না। শুভকামনা রইলো।

Share:

Facebook
Twitter
Pinterest
LinkedIn

Leave a Comment

Your email address will not be published.

Get monthly free recourse

Subscribe To Our Monthly Update

No spam, notifications only about new products, updates.

ফিচার্ড প্রোডাক্ট সমূহ

ফিচার্ড আর্টিকেল

বিষয় ভিত্তিক আর্টিকেলস

On Key

Related Posts

Shopping Cart