আমরা যখন কোনো মার্কেটপ্লেসে (অ্যাক্টিভ বা প্যাসিভ) একটু সফল হই, তখন সবাই চেষ্টা করি অন্য মার্কেটপ্লেসগুলোতেও কাজ করার। আসলে প্রত্যেক ফ্রিল্যান্সারের লক্ষ্যই এমন হওয়া উচিত—বিশেষ করে বিভিন্ন মাইক্রোস্টক মার্কেটপ্লেসের জন্য নিজেকে প্রস্তুত রাখা, যা খারাপ সময়ে আপনাকে সাপোর্ট দেবে। একটিমাত্র আয়ের উৎসের ওপর নির্ভর করলে হঠাৎ কোনো সংকটে হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়তে হয়।
এখন প্রশ্ন হলো—কোন মার্কেটপ্লেসে কাজ করবেন? ধরুন আপনি একটি মার্কেটপ্লেসে মোটামুটি ভালোভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। তাহলে আপনার উচিত সেখানে কাজ চালিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি, আপনি যে ক্যাটাগরির কাজ করেন সেই একই ক্যাটাগরি অন্য কোন কোন মার্কেটপ্লেসে সম্ভব—সে সম্পর্কে আগে ভালো ধারণা নেওয়া।
নতুন মার্কেটপ্লেসে যাওয়ার আগে যা যা পড়বেন
- Terms & Conditions সবার আগে ভালোভাবে পড়ে নিন। বেশিরভাগ মানুষ এই কাজটাই করেন না, অথচ এটিই সবার আগে করা উচিত।
- কপিরাইট সেকশন মনোযোগ দিয়ে পড়ুন—যতটা পড়বেন, তার চেয়ে বেশি বোঝার চেষ্টা করুন; দরকারে অন্যের সাহায্য নিন, বিভিন্ন গ্রুপে জেনে নিন। (আমার ফ্রিপিকের প্রথম আইডি ব্যান হয়েছিল খুব সামান্য একটি কারণে—আর সেই সামান্য কারণটাই যথেষ্ট ছিল। অথচ একই কারণ অন্য মার্কেটপ্লেসে সমস্যা নাও হতে পারে। তাই কপিরাইটের বিষয়গুলো বিস্তারিত জানুন।)
- ডিজাইন সাবমিশন রুলস ভালোভাবে পড়ুন, আর রিজেকশনের কারণগুলো বারবার পড়ুন।
- FAQ সেকশন পড়ুন—সেখানেই অনেক প্রশ্নের উত্তর পেয়ে যাবেন।
এরপর মার্কেটপ্লেসের সাম্প্রতিক অ্যাপ্রুভ হওয়া ডিজাইনগুলো দেখুন—তারা কেমন ধরনের ডিজাইন নিচ্ছে, শেপগুলো কেমন, কী কালার ব্যবহার হয়েছে, কী ধরনের টেক্সট ও ফন্ট ব্যবহার করা হয়েছে। তারপর নিজের সেরাটা দিয়ে ডিজাইন করুন, সময় নিন, নিজের ডিজাইনের ভুলগুলো বের করুন, সেগুলো ঠিক করে তবেই সাবমিট করুন।
অ্যাপ্রুভ হলে কী করবেন, রিজেক্ট হলে কী
এরপর দুটি ঘটনা ঘটতে পারে—ডিজাইন অ্যাপ্রুভ, নয়তো রিজেক্ট। অ্যাপ্রুভ হলে বুঝবেন আপনি একটা ধারণা পেয়ে গেছেন; সেই ধারণা কাজে লাগিয়ে কনটিনিউ করুন, তারপর আরেকটি মার্কেট টার্গেট করুন।
আর রিজেক্ট হলে সাধারণত এই কারণগুলো থাকে:
- ডিজাইন কোয়ালিটি। শুরুতে কিছু কাজ ভালো হবে না—তবে চর্চার সাথে এই পরিমাণ ধীরে ধীরে কমবে।
- মার্কেটপ্লেসের অ্যাপ্রুভাল প্রক্রিয়া। অনেক সাইটেই প্রথমে স্বয়ংক্রিয় সিস্টেম ডিজাইন যাচাই করে, ফলে ভালো ডিজাইনও কখনো কখনো রিজেক্ট হতে পারে।
- নির্দেশনা অনুযায়ী সঠিকভাবে সাবমিট না করা।
- PSD ফাইলে লেয়ার অ্যারেঞ্জমেন্ট ঠিক না থাকা।
তাই—কোয়ালিটি দুর্বল হলে কঠোর পরিশ্রমের কোনো বিকল্প নেই। সিস্টেমের কারণে ভালো ডিজাইন রিজেক্ট হলেও হতাশ হবেন না; কাজ চালিয়ে যান এবং এক মার্কেটে রিজেক্ট হওয়া ডিজাইন অন্য মার্কেটে জমা দিন—অনেক সময়ই সেটি অন্যত্র অ্যাপ্রুভ হয়ে যায়। পাশাপাশি লেয়ার অ্যারেঞ্জমেন্ট ঠিকভাবে শিখে নিন।
২০২৬: প্যাসিভ আয়ে বৈচিত্র্য এখন আরও জরুরি
AI টুলের কারণে মাইক্রোস্টক মার্কেটে কনটেন্টের সরবরাহ অনেক বেড়ে গেছে, ফলে সাধারণ ক্যাটাগরিতে প্রতিযোগিতা তীব্র। এই পরিস্থিতিতে দুটি বিষয় মাথায় রাখুন:
- একাধিক মার্কেটপ্লেসে ছড়িয়ে দিন। একটি প্ল্যাটফর্মের নিয়ম বা অ্যালগরিদম বদলে গেলে যেন আপনার পুরো আয় থেমে না যায়।
- নিশ বেছে নিন। যে ক্যাটাগরিতে আইটেম কম, সেখানেই সুযোগ বেশি। সাধারণ ও সহজ ডিজাইনের দাম কমছে, কিন্তু নির্দিষ্ট ইন্ডাস্ট্রির জন্য বানানো মানসম্মত ডিজাইনের চাহিদা রয়ে গেছে।
- AI নীতিমালা দেখে নিন। প্রতিটি মার্কেটপ্লেসে AI-জেনারেটেড কনটেন্ট নিয়ে আলাদা নিয়ম আছে—জমা দেওয়ার আগে বর্তমান নীতি যাচাই করে নিন।
শেষ কথা
আপনি যদি এই কাজগুলো করেন, তাহলে যেকোনো মার্কেটপ্লেসে সফলতার দৌড়ে এক ধাপ এগিয়ে থাকবেন। পাশাপাশি এই অভ্যাসগুলো অন্যের ওপর নির্ভরশীলতা কমাবে, রিসার্চ করার অভ্যাস গড়ে তুলবে এবং ইংরেজিসহ অন্যান্য বিষয়ে আপনাকে দক্ষ করে তুলবে।
এখানে GraphicRiver ও Freepik-কে উদাহরণ হিসেবে আলোচনা করা হয়েছে, তবে পরামর্শগুলো সব মার্কেটপ্লেসের জন্যই প্রযোজ্য।
[এই ব্লগটি লিখেছেন আবু রায়হান জিহাদ, এক্সিকিউটিভ অফিসার, ক্রিয়েটিভ ক্লান]
সম্পর্কিত পোস্ট: গ্রাফিক ডিজাইন কীভাবে শিখবেন · কারা আপনার ডিজাইন কিনবে ও কেন · ফ্রিপিক যেসব কারণে রিজেক্ট করে · ফ্রিপিকে অ্যাপ্রুভ করানোর কৌশল · রিজেকশনের কারণ ও সাবধানতা · ডিজাইনারদের ভবিষ্যৎ


